ধীরগতির স্মার্টফোনকে দ্রুত এবং গতিশীল করার ১২ টি কৌশল

স্মার্টফোনকে দ্রুত এবং গতিশীল করার ১২ টি কৌশল

যখন আপনি ব্র্যান্ড নিউ কোন স্মার্টফোন কিনেন তখন দেখবেন মোবাইল ডিভাইসটি সুপার ফাস্ট চলে।

তখন আপনার এই মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করতে কোন সমস্যাই হয় না।

বর্তমান বাজারের নতুন স্মার্টফোন টেকনলজিক্যা্লি অনেক আপডেটেড এবং মোবাইল কোম্পানিগুলো মোবাইল ফোন তৈরিতে গুণগত মান নিশ্চিত করে অনেক গুরুত্বের সাথে।      

কিন্তু মাসখানেক পরে আস্তে আস্তে মোবাইল ধীরগতিতে পারফর্ম করা শুরু করে।

মাঝে মাঝে এমন মনে হয় সেই মোবাইল চালানো অনেকটা পেইনফুল। আগের মত আর সুপার ফাস্ট গতিতে কাজ করতে পারেন না।

কিন্তু কেন?

হয়তোবা উত্তর খুজতে খুজতে আপনি ক্লান্ত। অনেকেই এই সম্পর্কে জানতে আমাদের কাছে মেইল এবং কমেন্ট করেন। 

তাদের জন্যই আজকে এই বিশেষ আর্টিকেল।

এই আর্টিকেলে বিস্তারিত জানাবো বর্তমানে আপনার ব্যবহৃত এন্ড্রোয়েড স্মার্টফোন কিভাবে আরো গতিশীল এবং দ্রুত করতে পারবেন ঠিক নতুন মোবাইলের অনুরুপ।

আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলো অবলম্বনের মাধ্যমে আপনি আপনার ব্যবহৃত স্মার্টফোনটি আরো গতিশীল এবং দ্রুত করতে পারবেন ।

মোবাইল ফোন ধীর গতির কারণ 

ফোন স্লো কেন হয় জানেন?

৯০% শতাংশের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন ধীর গতি হওয়ার কারণ হচ্ছে, ইন্টার্ন্যাল স্টোরেজ।

জ্বি হ্যা! আপনার মোবাইলের অভ্যন্তরে ডাটা সংরক্ষনের জন্য লিমিটেড স্টোরেজ থাকে যা ১৬ জিবি, ৩২ জিবি এমনকি ৬৪ জিবি থেকে বেশি পর্যন্ত হতে পারে।

যদি এই স্পেস শেষ হয়ে যায় বা শেষ হওয়ার উপক্রম হয় তাহলে আপনার মোবাইল ধীর গতিতে চলা শুরু করবে।

সহজ সমাধান হচ্ছে, আপনার মোবাইল ইন্টার্ন্যাল স্টোরেজ যতটা সম্ভব ফ্রি বা মুক্ত রাখার চেষ্টা করেন ।

এন্ড্রোয়েড স্মার্টফোন দ্রুত এবং গতিশীল করার ১২ টি কৌশল 

১. এপ্লিকেশন এবং সফটওয়ারের যৌক্তিক ব্যবহার 

আমাদের যখন গুগল প্লে স্টোর বা আই স্টোর থেকে এপ্লিকেশন ডাউনলোড করার সুযোগ আছে আছে, তখন আমরা বুঝে না বুঝে প্রয়োজনীয় বা অপ্রয়োজনীয় অনেক এপ্লিকেশন ইনস্টল করে বসে থাকি যা আমাদের সবসময় প্রয়োজন হয় না।

আপনি যদি একজন স্বাভাবিক স্মার্টফোন ব্যবহারকারি হোন তাহলে আপনি সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ টা এপ্লিকেশন নিয়মিত ব্যবহার করে থাকেন।

এমনকি ৪০-৫০% অধিক এপ্লিকেশন আপনার মোবাইলে আছে যা আপনি বছরে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করেন।

এমন যদি এপ্লিকেশন আপনার মোবাইলে থেকে থাকে তাহলে আপনি আপনার মোবাইল থেকে আন ইনস্টল করে দিন।

আন-ইনস্টলের পরে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলো তা মোবাইল থেকে রিমুভ করে ফেলা।

২. অপ্রয়োজনীয় ফাইল এবং ডকুমেন্ট অপসারণ

এমন কিছু ভিডিও, ছবি বা অন্যান্য ডক আছে যা সরাসরি এপ্লিকেশন থেকে সয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড হয়ে যায় যেমন ওয়াটসআপ। ওয়াটসআপ এ আপনি যখন কোন ভিডিওঁ বা ইমেজে ক্লিক করেন তা অটো ডাউনলোড হয়ে যায় এবং সেগুলো স্টোরেজ জমা হতে থাকে। অনেকসময় প্রয়োজন ছাড়া অপ্রয়োজনীয় এসব ফাইল রিমুভ করলে আপনার স্টোরেজ সিস্টেমের উপর চাপ কমে। মাঝে মাঝে অপ্রয়োজনীয় এসব ফাইল রিমুভ করুন।

৩. অনলাইন ক্লাউড ব্যবহার করুন

অনেকেই মোবাইল স্টোরেজ প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর বা কোন ছবি, ভিডিও সংরক্ষন করেন। সম্ভব হলে এসব ফাইল বা ডকুমেন্ট মেমোরিকার্ড বা ইন্টারনাল স্টোরেজ থেকে সরিয়ে গুগল ক্লাউডে সংরক্ষণ করতে পারেন। যাতে করে আপনার ইন্টারনাল স্টোরেজ ফ্রি হয়ে যায় এবং আপনার ফোন আগের মত দ্রুতগতিতে চলা শুরু করে দেয়।

৪. উন্নত মানের মাইক্রো এস ডি কার্ড ব্যবহার করুন

অনেকেই ফোনের স্টোরেজ বাড়ানোর জন্য এক্সটার্ন্যাল এস ডি বা মেমোরি কার্ড ব্যবহার করেন। বাংলাদেশে মার্কেটে খুব সস্তায় এই এস ডি বা মেমোরি কার্ড পাওয়া যায়।  

অনেকেই সামান্য দুই চার পয়সা বাচাতে গিয়ে সস্তায় অনুন্নত মানের মেমোরি কার্ড ব্যবহার করেন যার ফলে তার মোবাইল পারফরমেন্স এ সমস্যা দেখা দেয়।

আপনি ভালো ব্র্যান্ডের ফাস্ট এস ডি বা মেমোরি কার্ড ব্যবহার করেন। ক্লাস ১০ এর নিচে ব্যবহার না করাই উত্তম। এমন অনেক ভালো এস ডি বা মেমোরি কার্ড প্রস্তুতকারক কোম্পানি আছে তাদের ব্যাপারে জানুন। দু চার পয়সা বেশি দাম দিয়ে হলে এস ডি কার্ড কিনে ফেলুন। আপনার মোবাইলের পারফরমেন্স ভালো হবে।

৫. উইজেড অপসারণ

স্মার্ট ফোনে অনেকেই শর্টকাট এর উদ্দেশ্যে হোম স্ক্রিনে উইজেড ব্যবহার করে থাকেন যার ফলে সে তার এপ্লিকেশন সহজেই হাতের নাগালে পায়। অনেকের হোম স্ক্রিনের এই উইজেড থেকে যায়, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর। সেক্ষেত্রে আপনার হোম স্ক্রিনে যদি এসব অপ্রয়োজনীয় উইজেড থেকে থাকে তাহলে দ্রুত এই  উইজেডগুলো অপসারণ করুন।

৬. এনিমেশন পরিহার করুন

অনেকেই এনিমেশন খুব পছন্দ করেন।

স্ক্রিন সেভার থেকে শুরু করে অনেক জায়গায় এনিমেশন এবং মোশন গ্রাফিক্স ব্যবহার করেন।

যদি আপনি এমন এনিমেশন বা মোশন গ্রাফিক্স ব্যবহার করে থাকেন তাহলে সেটিংস অপশনে যেয়ে তা বন্ধ করে দিন।

আপনি নিজেই পরখ করে দেখতে পারেন আপনার মোবাইল কতটা দ্রুত এবং গতিশীল হয়েছে।

৭. ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এপ্লিকেশন অপসারণ

আপনি মোবাইলে কোন এপ্লিকেশন চালু করেন এবং ব্যবহার শেষে বন্ধ করেন ঠিকই কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ডে

এই এপ্লিকেশন চলতে থাকে ঠিকই।

আপনি আজ হয়তবা দরকারে কোন এপ্লিকেশন চালু করেন ঠিকই কিন্তু আগামিকাল সেই এপ্লিকেশন আপনার দরকার নাও হতে পারে। কিন্তু ব্যাকগ্রাউন্ডে এপ্লিকেশন থাকার কারণে আপনার মোবাইল ধীর গতির হয়ে যেতে পারে।

অবশ্যই দিনে কমপক্ষে একবার করে হলেও ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এপ্লিকেশন রিমুভ করতে ভুলবেন না।

এতে করে আপনার যে রিসোর্স আছে তা কম ব্যবহার হবে এবং আপনার মোবাইল গতিশীল হয়ে যাবে।

৮. ক্লিনার এপ্লিকেশন পরিহার করুন

অনেকে মোবাইল ফাস্ট করার জন্যে বুঝে না বুঝে বা পরিচিত কারোর পরামর্শে ক্লিনার এপ্লিকেশন ব্যবহার করা শুরু করে দেয়। যা মোবাইলকে আরো ধীর গতির করে ফেলেন।

বর্তমান সময়ে এতো আপডেটেড টেকনোলজির মোবাইল এসেছে, মোবাইলের আভ্যন্তরীন সফটওয়্যার সয়ংক্রিয়ভাবে তা প্রতিনিয়ত ক্লিন আপ করতে থাকে।

আলাদা কোন ক্লিন আপ এপ্লিকেশন এর আভ্যন্তরীন ডিবাগ বা ম্যালওয়ার ফাংশনকে পরিষ্কার করতে পারে না। পারলেও তা খুব নগন্য।

৯. হালকা এপ্লিকেশন ব্যবহার করুন

আমরা যারা সোশ্যাল মিডিয়া যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার এমনকি ইউ টিউব প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করি, তাদের জন্য পরামর্শ হলে লাইট ভার্সনের এপ্লিকেশন ব্যবহার করা।

ফেসবুকের ভারি আপ্লিকেশন যা আমরা সচরাচর ব্যবহার করি, প্রসেসরের উপর এতো বেশি চাপ সৃষ্টি করে আর এতো বেশি ব্যাটারি অপচয় করে যা কল্পনার বাইরে।

ফেসবুকে এপের জেনুইন ভারি ভার্সনের পাশাপাশি আছে লাইট ভার্সন, যা আপনি সহজেই ব্যবহার করতে পারবেন। সেই সাথে টিকটক লাইট ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি ইউটিউব গো, গ্যালারি গো ব্যবহার করতে পারেন। 

এসব লাইট ভার্সন ব্যবহারের ফলে আপনার রিসোর্স অনেকাংশে কমে আসবে এবং আপনার স্মার্ট ফোন দ্রুত গতিতে চলবে না শুধু দৌড়াবে বটে।

১০. থার্ড পার্টি লঞ্চার পরিহার করুন

মোবাইল কোম্পানির নিজস্ব লঞ্চার এর পাশাপাশি অনেক থার্ড পার্টি লঞ্চার পাওয়া যায়। 

অনেকে লঞ্চার ব্যবহার করতে স্বাছন্দ্য বোধ করেন। যেখানে অনেক এনিমেশন, থিম সবকিছু পাওয়া যায়।

এই থার্ড পার্টি লঞ্চার ব্যবহার করলে মোবাইল অনেক সময় স্লো হয়ে যায়। যদি ব্যবহার করতেই হয় তাহলে চেষ্টা করুন লাইট লঞ্চার ব্যবহার করতে।

১১. সময় নিয়ে এন্ড্রোয়েড আপডেট করুন

এন্ড্রোয়েড এর যখনই আপডেট আসবে, আপডেট তো করবেন অবশ্যই।

কিন্তু  তা একটু সময় নিয়ে আপডেট করুন। তাড়াতাড়ি আপডেট করতে যাবেন না।

আগে জানুন সেই আপডেট সম্পর্কে এবং বুঝার চেষ্টা করুন সেই আপডেটে আপনার মোবাইলে কোন ক্ষতি হতে পারে কিনা? তারপর আপডেট করুন।

অনেক সময় আপডেটের কারণে মোবাইল স্লো হয়ে যেতে পারে।

১২.  ফোন হার্ড রিসেট করতে পারেন

এতো কিছুর পরেও যদি আপনার মোবাইল ধীর গতিতে চলতে থাকে তাহলে সর্বশেষ সমাধান হচ্ছে হার্ড রিসেট।

জ্বি হ্যা!

প্রথমে আপনার মোবাইলে থাকা প্রয়োজনীয় যাবতীয় ফাইল, ফোল্ডার, ডকুমেন্ট ব্যাক আপ নিয়ে নিন।

তারপর হার্ড রিসেট দিন।

৬ মাস অন্তর অন্তর এই হার্ড রিসেট অনেক কার্যকরী আপনার মোবাইলকে দ্রুত এবং দতিশীল করার জন্য।

শেষ কথা

আশা করি, উপরোক্ত ১২ টি কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে আপনি আপনার স্মার্টফোনকে নতুন এবং আগের মত দ্রুত এবং গতিশীল করতে সক্ষম হবেন। 

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published.

sixteen − seven =